Saturday, October 16th, 2021




উন্মুক্ত জলাশয় সূতি নদী।

 

জোবায়ের হোসেন খান, তাড়াইল(কিশোরগঞ্জ): কিশোরগঞ্জ এর তাড়াইল উপজেলার সহিলাটি, ভেরনতলা, সাররং, শালিহা, বাশাটি ও মুড়াকান্দি গ্রামের মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে সূতি নদী। নদীটি সরকার ইজারা দিলেও বিগত ১৯৯৫ ইং(১৪০২ বাংলা) সনে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত ঘোষণা করে। এই নদীর পাড়ে প্রায় ৬০০ শত জেলে পরিবার নদী থেকে মাছ আহরণের মাধ্যমে জীবীকা নির্বাহ করে আসছে।কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক এর কার্যালয় বিগত ২১/০৮/২০১৯ ইং তারিখে সূতি নদী পুনরায় বদ্ধ ঘোষণা করেন।এই প্রেক্ষিতে নবদ্বীপ বর্মন এর নামে সরকার সূতি নদী ইজারা দেয়।
সূতি নদী ইজারা দেওয়ার পর হইতে নদীর পাড়ে বসবাসরত জেলেদের জীবন দূর্বিষহ হয়ে উঠে। তাদের একমাত্র উপার্জনের রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়।এমনকি গরু গোসল, হাস চড়ানোর জন্য ইজারাদার কে টাকা দিতে হয়।
কোন উপায় না পেয়ে সাধারণ জেলেরা ভূমি মন্ত্রণালয়ে জলমহালটি উন্মুক্ত করার জন্য আবেদন করেন। ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ মোতাবেক জেলা প্রশাসকের কার্যালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে প্রতিবেদনের জন্য নির্দেশ দেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কানুনগো ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাদের মতামত মাসিক সমন্বয় সভায় উপস্থাপন করিলে, সকলের সম্মতিতে সূতি নদী উন্মুক্ত করার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক কে অনুরোধ করেন।
তবুও, গরীব অসহায় জেলেরা আলোর মুখ দেখতে পায় নি।
সর্বশেষ আদালতের দ্বারস্থ হলে বিগত ২৩/০৯/২১ ইং তারিখে সহকারী জজ উম্মে হাবিবা সরকার কে ইজারা সংক্রান্ত কোন কার্যক্রম পরিচালনা না করার জন্য আদেশ দেন।এই আদেশের পরেই নবদ্বীপ বর্মনের আবেদনের প্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন সূতি নদীতে অভিযান পরিচালনা করেন। এই সময় নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অমিত পন্ডিত গোপন করেন।এই সময় ফিক্সড মেশিন ক্যাটাগরির জাল জব্দ করেন বলে উপজেলা প্রশাসন দাবী করে। তাছাড়াও জেলেদের নিকট হইতে জরিমানা ও মুচলেকা নেওয়া হয়।
এই বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অমিত পন্ডিত জানান যে, মৎস্য আইন ১৯৫০ এর ২৪(ক) ও ২৫(খ) ধারায় জেলেদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় জেলে বাহার উদ্দিন জানান যে, উদ্দেশ্য প্রনোদিত ভাবে আমাদের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন এই অভিযান পরিচালনা করেছে। আমাদের জাল জব্দ করে পুড়ে ফেললেও নবদ্বীপ বর্মন এর জাল জব্দ করেনি। সে (ফিক্সড মেশিন) জাল দিয়ে এখনো মাছ ধরিতেছে, কিন্তু প্রশাসন কোন এক অজ্ঞাত কারনে নীরব ভূমিকা পালন করছে। সরকার সূতি নদী একবার উন্মুক্ত করে, আবার বদ্ধ ঘোষণা করে।এই প্রহসন হইতে আমরা মুক্তি চাই। সূতি নদী আগের ন্যায় উন্মুক্ত ঘোষণার দাবি জানাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category