ঈদ’কে সামনে রেখে হিজড়াদের চাঁদাবাজি চরমে

কালের সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: ‘ওই ট্যাকা দে’, টাকা না দিলে যাব না, এখনই দে’ এমন জোর আবদারের সঙ্গে রাজধানীবাসীর সবাই কম-বেশি পরিচিত। রাস্তাঘাটে, শপিংমলে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে, ফুটপাতে কোথায় নেই তাদের দৌরাত্ম্য ?

এমনকি বাসাবাড়িতে, বিয়ে অনুষ্ঠানে কিংবা যে কোনো পারিবারিক অনুষ্ঠানেও তাদের উৎপাত দিন দিন বাড়ছেই চলেছে। বছরের পর বছর গণমাধ্যমে এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ হলেও কার্যত কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি। সমাজে অসহায় হিসেবে সাহায্যের জন্য মানুষের কাছে হাত পাতে হিজড়ারা। মানুষও স্বেচ্ছায় সাহায্য করে তাদের। কিন্তু এখন আর সে দৃশ্য নেই। এখন যেন পেশাদার চাঁদাবাজের ভূমিকায় রাজধানী চষে বেড়াচ্ছে হিজড়া বাহিনী !

এমন ঘটনা ঘটে রাজধানীর উত্তরার ১৩নং সেক্টরের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে । প্রতিষ্ঠানে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা বারংবার বলছিল ৩/৪ দিন পরে এসে টাকা নিও ।  হিজড়াদের দাবি আজই এবং এখনই টাকা দিতে হবে । এভাবেই  সদলবলে চলে তাদের হিজড়াদের চাঁদাবাজি।

চলমান বাসেও জোরজবরদস্তী করে চলে হিজড়াদের চাঁদা সংগ্রহ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঐ দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা বলেন, ঈদের বাকি এখনও ২৪/২৫ দিন তারপরও ওরা জোর জবর দোস্তী করে টাকা নেয় । টাকা দিতে একটু দেরি হলেই অশ্লীল বাক্য প্রয়োগ, অশ্লীল অঙ্গ ভঙ্গী এমন কি তারা বিবস্ত্র হতেও দ্বিধা করে না ।

দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা আরো বলেন, তাদের এমন আচরণে প্রতিবাদ করে টাকা দেবে না বলে জানালে তারা শারীরিকভাবে হেনস্তা করে, এবং অফিসে গ্লাসের দরজার তালা ও কিছু আসবাবপত্র ভেঙ্গে ফেলে হিজড়া বাহিনী । পরে নিরূপায় হয়ে টাকা দিতে বাধ্য হন। তাও আবার একশ-দুশ নয়, দেড় হাজার টাকা চাঁদা নেয় হিজড়া বাহিনী ।

হিজড়াদের দাবি, তারা চাঁদাবাজি করে না। কারণ অস্ত্র ঠেকিয়ে চাঁদাবাজি আর জীবনের জন্য হাততালি দিয়ে চাঁদাবাজি এক নয়।  হিজড়াদের এমন জোর পূর্বক টাকা আদায়কে সাহায্য দাবী বলে চালিয়ে দিচ্ছে  তারা । এব্যাপারে ফোনে কথা হয় একজন পুলিশ কর্মকর্তার সাথে । তিনি বলেন, ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে, অফিস, দোকান, বাসা বাড়ি ও বাসের ভেতরে হিজড়াদের চাঁদাবাজি দমনে সরকারের দৃষ্টি রয়েছে বলে জানান, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে।

এম কে ইসলাম/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category