Tuesday, June 21st, 2022




ইলিশের নেই দেখা রাঙ্গাবালীতে-মৌসুমেও খালি ফিরছে ট্রলার

কালের সংবাদ ডেস্ক: উপকূলের নদনদীতে মিলছে না আশানুরূপ ইলিশ। কিন্তু চলছে ইলিশের মৌসুম। জ্যৈষ্ঠ মাস থেকেই ইলিশের মৌসুম শুরু হয়। অথচ জ্যৈষ্ঠ পেরিয়ে আষাঢ় চলে এলেও জেলেদের জালে ধরা পড়ছে না ইলিশ। শুধু চলতি বছরেই নয় গত দুই-তিন বছর ধরে উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীর নদনদীতে এই সময়ে ইলিশ মিলছে না।

উক্ত এলাকার জেলেরা জানান, মৌসুমের শুরু থেকে উপকূলীয় নদনদীতে ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না। জাল ফেলে ইলিশ না পেয়ে খালি হাতে ফিরছেন তারা। উঠছে না যাওয়া-আসার জ্বালানি খরচও। তাই হতাশায় দিন কাটছে জেলেদের। এনজিওর ঋণ, মহাজনের দাদন এবং ধারদেনায় জর্জরিত হয়ে পড়ছেন। জ্যৈষ্ঠতে মৌসুম শুরু, এই শুরুতেও ইলিশ না পেয়ে আষাঢ়ে ইলিশের দেখা মিলবে এমনটাই মনে করেছিলেন জেলেরা। ভেবেছিলেন আষাঢ়ে ঘুচবে তাদের দুঃখ। জালে ধরা পড়বে মাছ। কিন্তু জেলেদের সেই আশাও পূরণ হয়নি। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার আগুনমুখা, বুড়াগৌরাঙ্গ, রাবনাবাদ ও দাড়ছিড়া নদীতে ইলিশ একেবারেই কম ধরা পড়ছে। এ পরিস্থিতিতে নদীতে যাওয়ার আগ্রহ হারাচ্ছেন জেলেরা। উপজেলার চরমোন্তাজ, চালিতাবুনিয়া, মৌডুবি, কোড়ালিয়া, নিজকাটাসহ মত্স্য আহরণের কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, জেলেদের অনেকেই নৌকা-ট্রলার নিয়ে ঘাটে অলস সময় পার করছেন। ইলিশ না পেয়ে জেলে পরিবারগুলোতে ঋণের বোঝা বাড়ছে ।

উক্ত উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের বউবাজার গ্রামের জেলে নিঠুর বলেন, ‘জেলেরা এইবার শেষ। নদীতে কোন মাছ নাই। সারা দিন জাল ফেলে রাখলেও একটা মাছ পাওয়া যায় না। সাগরে কিছু মাছ আছে, কিন্তু নদীতে কোন মাছই নাই। জেলেদের বাঁচার কোন উপায় নাই। জিনিসপত্রের যা দাম। কোন আয় নাই। শুধু দেনা হয়।’

ব্যবসায়ী মত্স্য বলছেন, গেল দুই-তিন বছর ধরে উপকূলের এ চারটি নদীতে ইলিশ কম পাওয়া যাচ্ছে। অথচ একসময় এসব নদীতে ঝাঁকে ঝাঁকে মাছ পাওয়া যেত এই সময়ে। এবারের অবস্থা আরো খারাপ। মাছ নেই বললেই চলে। তাই হাটবাজারগুলোতে ইলিশ পাওয়া কষ্টকর। দামও নাগালের বাইরে। চরমোন্তাজ মত্স্য আড়তের পরিচালক বেল্লাল খাঁ বলেন, ‘ভাই জেলেদের কষ্টের কোন শেষ নাই। গত দুই-তিন বছর ধরে নদীতে কোন মাছ নাই। গত দুই বছর কিছু টুকটাক পাওয়া গেলেও এবার কোন মাছই পাওয়া যাচ্ছে না। জেলেরা খুব কষ্টে আছে। খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছে। তিনি বলেন, এই সময়ে আড়তে অনেক মাছ আসত। এখন দেখেন, কোন মাছ নাই।’

উক্ত উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা মো. আনোয়ারুল ইসলাম বাবুল জানান, প্রজননকালীন সময়ে ইলিশ সাগরে অবস্থান করে এবং মৌসুম কিছুটা পরিবর্তন হওয়ায় নদনদীতেও ইলিশ কম ধরা পড়ছে। আশা করা হচ্ছে শিগ্গিরই নদনদীতে ঝাঁকে ঝাঁকে মাছের দেখা মিলবে।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ, অ্যাকোয়াকালচার অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মাদ আলী জানান, আমাদের উপকূলীয় এসব নদীগুলো ইলিশ ধরার জন্য বিখ্যাত। কিন্তু আন্ধারমানিক নদীসহ তার আশপাশের জায়গাগুলোতে যেভাবে বড় বড় প্রকল্প শুরু হয়েছে। বিদ্যুতের প্রকল্পগুলো সব ইলিশ অভয়াশ্রমের আশপাশে। নদনদীতে অবাধে বিভিন্ন নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার হচ্ছে। এসব কারণে ইলিশ কমছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, দিন দিন আরো কমবে ইলিশ। হুমকিতে পড়বে জেলেদের জীবন ও জীবিকা।

এস চৌধূরী/-

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category