Sunday, January 17th, 2021




আমি ভয়কে জয় করেছি: আবদুল কাদের মির্জা

রমজান আলী রানা, (কোম্পানীগঞ্জ, নোয়াখালী): বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার বিরুদ্ধে আগে মন্তব্যের বিষয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল -হানিফের উদ্দেশ্যে বলেন, হানিফ সাহেব আপনি নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভা নির্বাচন থেকে শিক্ষা নেন। আমি আর কিছু বলতে চাচ্ছিনা।

তিনি রোববার সকালে বসুরহাট পৌরসভা অফিসে নির্বাচনী পরবর্তী সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এসব কথা বলেন।

মির্জা বিপুল ভোটে জয়লাভের পর রোববার ভোর থেকে ১০টা পর্যন্ত পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের জনগণের সাথে দেখা করেন, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং জনগণকে ধন্যবাদ জানান। এরপর তিনি পৌরসভা কার্যালয়ে আসলে কোম্পানীগঞ্জের নিজ দলীয় রাজনীতিবিদরা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সাংবাদিক সংগঠন, ব্যবসায়ী সংগঠন ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

আবদুল কাদের মির্জা বলেন, আমি ভয়কে জয় করেছি। আমার বিজয়টা আমার কাজের ফসল। আমাদের নেতারা, বড় নেতাদের তেল মারে, তাদের এলাকার সাথে কোন সম্পর্ক নেই। একটা গরীব মেয়ে বিয়ে দিতে পাচ্ছেনা, তারা কি তাদেরকে ১০টাকা দিয়ে সহযোগিতা করে। একটা মানুষ চিকিৎসার অভাবে মারা যাচ্ছে, তাদেরকে কি কোন সহযোগিতা করছে। এদের কি এলাকার সাথে কোন যোগাযোগ আছে। এরা ভোটের সময় আসলে কিছু কিছু নেতারে টাকা-পয়সা দিয়া নমিনেশনটা নেত্রীকে সুপারিশ করে নেয়। এরা নমিনেশন নিয়ে আর এলাকার সাথে কোন সম্পর্ক রাখেনা। তারা এলাকার কোন কর্মকান্ডের সাথে থাকে না, উন্নয়নের সাথে থাকে না, কোনটার সাথেই নেই। আর অনেক এমপি আছে, নির্বাচনে প্রতিশ্রæতি দিয়ে প্রতিশ্রæতি রক্ষা করে না। শতভাগ না পারলেও, অন্তত ৭০ভাগ থেকে ৮০ ভাগ যদি প্রতিশ্রæতি তার রক্ষা করতেন, তাহলে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এখন যে নির্বাচনগুলো হচ্ছে সব নির্বাচনগুলোতে জয়ী হত।

তিনি আরও বলেন, মহামারি করোনাকালীন সময়ে আমাদের কোম্পানীগঞ্জে কোন দলের, কোন নেতা, অসহায় ও গরীবদের সাহায্য করতে আসেনি। তারা সে সময়ে পালিয়েছে। আমি এ গরীব, দুঃখী অসহায়দের সাথে পাহাড়ের মত দাঁড়িয়ে ছিলাম এবং সাহায্য সহযোগিতা করেছিলাম।

আজ দাগনভুইয়া ও বাংলাদেশের যে নির্বাচনগুলো হয়েছে তা দুঃখজনক। আর এ পরিবর্তনগুলো কে আনবে? খালেদা জিয়া এখন সরকারের সাথে সমঝোতা করে বাসায় শুয়ে আছে, ছেলে (তারেক রহমান) হলো দূর্ণীতিবাজ, বাংলাদেশে আসলেও তার পক্ষে পরিবর্তনকরা সম্ভব নয়। আর জামায়াতি ইসলাম আছে, তাদের কোন রেজিষ্ট্রেশন নাই। জামায়াত হলো কোল বালিশ, তার কোল বালিশ হিসেবে আরও ৫০ বছর থাকতে হবে, তাদের ক্ষমতায় আসারর কোন সুযোগ নেই। তারা এ পরিবর্তন আনতে পারবে না। এ পরিবর্তন আনতে পারবে একমাত্র বাংলার প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। তার সেই সৎ সাহস আছে। সে প্রতিশ্রæতি নিয়ে কাজ করে।

এক প্রশ্নের জবাবে কাদের মির্জা বলেন, বৃহত্তর নোয়াখালীতে ৩-৪টা আসন- আমাদের এ আসন, ওবায়দুল কাদের সাহেবের উন্নয়ন এবং ওনার নীতিনৈতিকতার কারণে এখানে আগের চাইতে উনার জন সমর্থন অনেক বেড়েছে, উনি এখানে নির্বাচিত হবেন। হাতিয়াতে আমাদের সাংগঠনিক অবস্থা মোটামুটি ভালো। সেখানেও অপরাজনীতি আছে আমি অস্বীকার করবো না। সেখানে যে খুনা-খুনির রাজনীতি এটাও আমরা ঘৃনা করি। বেগমগঞ্জের আসনটা বর্তমান এমপি সাহেব মুটামুটি ভালো চালাচ্ছে। চাটখিণ-সোনাইমুড়ী আসনে ইব্রাহীম সাহেব অনেক ভালো চালাচ্ছেন। যতটুকু তথ্য আমি নিয়েছি, এর বাহিরে বৃহত্তর নোয়াখালীতে সুষ্ঠ, নিরপেক্ষ নির্বাচন হয় আর একটাতেও আওয়ামী লীগ জয় পাবে না।

এসব আসনে নির্বাচিত হবে হলে, তারা যে অপকর্ম করে, এগুলো থেকে সরে আসতে হবে। টেন্ডার বাণিজ্য, চাকুরী বাণিজ্য থেকে আরম্ভ করে সরকারী কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রণ করা সহ যত অপকর্ম তারা করে এগুলো তারা ভালোভাবে জানে, এগুলো বন্ধ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের এলাকার দু-একজন কুলাঙ্গারের সহযোগিতায় ফেনীর দাগনভুইঞা ছেলেরা আমার বাড়ীতে ৪বার আক্রমন করেছে। আমি নিজাম হাজারীকে বলি, কোন বিচার পায়নি। এরা সেখানে কি করে খোঁজ-খবর নিয়ে দেখেন। স্বপন মিয়াজী সেখানে নমিনেশন নিয়েছে, খোঁজ খবর নিয়ে দেখেন তারা সেখানে কি করে। এবিয়ষগুলো আমাদের নেতা (ওবায়দুল কাদের) বিবেচনায় আনা দরকার। যেহেতু ওনার এলাকা। উনি শুধু বৃহত্তর নোয়াখালীর নেতা নয়- চট্টগ্রাম বিভাগে আমার মনে হয় এ প্রথম বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণসম্পাদক হয়েছে। এ বিভাগে আর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন না। এ বিভাগে ওনার (ওবায়দুল কাদের) দায়িত্ব আছে। এ বিষয়গুলোর ব্যাপারে ওনাকে (ওবায়দুল কাদের) নজর দিতে হবে। উনাকে (ওবায়দুল কাদের) নেত্রীর (শেখহাসিনা) কাছে সঠিক তথ্যটা তুলো ধরতে হবে। ওবায়দুল কাদের সাহেব নীতিনৈতিকতা নিয়ে রাজনীতি করে। এদের সাথে লড়াই করার মত বা এদের বিরুদ্ধে কঠিন অবস্থানে যাওয়ার মত শারীরিক অবস্থাও নেই আর ওই মানষিকতাও তিনি পোষণ করে না। কেউ যদি ওনাকে মদ খেলে গালি দেয় তিনি কি তাদেরকে গালি দিয়ে জবাব দিবে? এতটুকু বলতে পারবে যে এ তুমি কি বলতেছ।

অস্ত্রের রাজনীতি আমরা কোম্পানীগঞ্জ থেকে চির বিদায় নিব। বিরোধীদলের যাদের কাছে অস্ত্র আছে সে বিষয়ে আমি তাদের নেতাদের সাথে আলোচনা করবো। তাদের দু’জনের কথা আমি বিএনপি প্রার্থী কামাল উদ্দিন চৌধুরীকে জানিয়েছি।

এস ইসলাম/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category