আজ অমলিন সেই ৭ মার্চ

এস এম মনির, কালের সংবাদ:

আজ অমলিন সেই ৭ মার্চ। ১৯৭১ এর ৭ মার্চ সাবেক রেসর্কোস ময়দান- আজকের সোহরাওর্য়াদী উদ্যানে দেয়া এই ঐতিহাসিক ভাষণের সময় মুহুর্মূহু গর্জনে উত্তাল ছিল জনসমুদ্র। লক্ষ কন্ঠের একই আওয়াজ উচ্চারিত হতে থাকে দেশের এ প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে। ঢাকাসহ গোটা দেশে পত পত করে উড়ছিল সবুজ জমিনের উপর লাল সূর্যের পতাকা।

বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা সংগ্রামে শরিক হওয়ার ডাক দিয়েছিলেন; কিন্তু পাকিস্তানী শাসকদের সঙ্গে নিয়মতান্ত্রিক আলোচনার পথ থেকে পিছিয়ে যাননি। এটা নিঃসন্দেহে তাঁর বিচক্ষণতা ও দূরদর্শিতার পরিচয় বহন করে। কিন্তু পাকিস্তানী হানাদাররা বাঙালীকে নিশ্চিহ্ন করার ষড়যন্ত্র করে।

একদিকে আলোচনা চলেছে, অন্যদিকে তারা পশ্চিম পাকিস্তান থেকে সৈন্য ও অস্ত্র আনা অব্যাহত রেখেছে। তারা কখনই এ দেশের মানুষের ন্যায্য দাবি মেনে নিতে চায়নি। তারা চেয়েছিল বাংলার মানুষকে চিরকাল গোলাম করে রাখতে।

১৯৪৭ সালের দেশভাগ ও পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকে তারা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান বা পূর্ববঙ্গের মানুষের ন্যায্য দাবি কখনই মেনে নেয়নি। এখানকার মানুষকে তারা সমান অধিকার কখনই দেয়নি। বরং শুরু থেকেই ঔপনিবেশিক শাসন ও শোষণের যাঁতাকলে বেঁধেছে এখানকার মানুষকে। প্রথমে তারা আঘাত হেনেছে বাংলাভাষার ওপর। তারা উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষা করার কথা ঘোষণা করেছিল।

১৯৪৮ সাল থেকেই পাকিস্তানী শাসকদের এ ষড়যন্ত্রমূলক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে পূর্ববঙ্গের মানুষ প্রতিবাদ জানায়। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে প্রাণ দিতে হয় এদেশের মানুষকে। বরকত, সালাম, রফিক, জব্বারসহ অনেককে ভাষার জন্য জীবন দিতে হয়। কিন্তু আন্দোলন থেমে থাকেনি। বরং পাকিস্তানীদের অন্যায় শোষণ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে এখানকার গণতান্ত্রিক আন্দোলন স্বাধিকার আন্দোলনে রূপ নেয় এবং তা ধীরে ধীরে এগিয়ে যায় চূড়ান্ত লক্ষ্যের দিকে।

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রমনার রেসকোর্সের জনসভায় বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের মধ্য দিয়ে এদেশের মানুষের ভবিষ্যত নির্ধারিত হয়। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মানুষ শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করেছে শান্তিপূর্ণভাবে-নিয়মতান্ত্রিক পথে সমস্যা সমাধানের। কিন্তু ২৫ মার্চ রাতে বিশ্বাসঘাতক পাকিস্তানী হানাদাররা সব ন্যায়নীতি লঙ্ঘন করে ঝাঁপিয়ে পড়ে নিরস্ত্র বাঙালীর ওপর।

সেদিন ‘যার যা আছে তাই নিয়ে’ এ দেশের মানুষ হানাদারদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। দীর্ঘ নয় মাসের নিরন্তর মুক্তির লড়াইয়ের পর বিজয়ী হয় জাতি। তাই ঐতিহাসিক ৭ মার্চের গুরুত্ব আজও অম্লান।

মূলত ৭ মার্চের ভাষণই ছিল স্বাধীনতার ঘোষণা এবং একই সঙ্গে স্বাধীনতা অর্জনের নির্দেশিত পথ। যতকাল বাংলাদেশ নামক ভূখ-টি থাকবে ততকাল বেঁচে থাকবেন তার মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, চির অম্লান তথা উজ্জ্বল হয়ে থাকবে ৭ মার্চের এই ভাষণ।

 

এসএম/কেএস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category