আগামীকাল স্বাধীনতা দিবস ; ভারত-পাকিস্তান-বাংলাদেশ সীমান্তে হাই অ্যালার্ট জারি

বিপ্রদ্বীপ দাস, (হুগলি, কলকাতা, ভারত): কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তানের জঙ্গিদের মদতে ভারতের মধ্যে জঙ্গি হামলার নীলনকশা  করছে, নিষিদ্ধ নব্য জামায়েত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)। যে কোনও মুহূর্তে সীমান্ত পেরিয়ে এদেশে ঢোকার জন্য ওঁৎ পেতে রয়েছে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জঙ্গি দল। যারা এই দেশের যে কোনও প্রান্তে ভয়ঙ্কর হামলা চালাতে পারে বলে গোয়েন্দারা সূত্র মারফত জানতে পেরেছেন।

সে কারণে স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে ভারত‑বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায় হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। বারাসত, বসিরহাট ও বনগাঁ জেলা পুলিশকে গোয়েন্দা দপ্তর থেকে ইতিমধ্যে সতর্ক করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও রাজ্য পুলিশের তরফে ব্যাপক টহলদারি শুরু করা হয়েছে। জঙ্গি হামলার বিষয়ে হাই অ্যালার্ট জারি হওয়ার পর সীমান্তবর্তী থানা এলাকায় নাকা চেকিং, পুলিশ ও বিএসএফের যৌথ অভিযান, অপরিচিত ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ সহ বিভিন্ন সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কাঁটাতারের বেড়া নেই এমন ‘অরক্ষিত’ সীমান্ত এলাকা, বিশেষত নদীপথকে ২৪ ঘণ্টা নজরদারির মধ্যে রাখার চেষ্টা করছেন বিএসএফ জওয়ানরা। তবে সাধারণত জঙ্গিরা পশ্চিমবঙ্গকে নিরাপদ করিডর হিসেবে ব্যবহার করে থাকে। সেই কারণে সীমান্ত পেরিয়ে ঢুকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে জঙ্গিরা হামলা চালাতে পারে বলে জানতে পেরেছেন গোয়েন্দা কর্তারা।

গোয়েন্দা সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বিলোপের পর বাংলাদেশে মৌলবাদী সংগঠনের উস্কানিতে ভারত-বিরোধী মিছিল, মিটিংয়ের সংখ্যা বেড়ে গিয়েছে। একাধিক উগ্রপন্থী সংগঠন বাংলাদেশস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনের অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখানোর চেষ্টাও করে। যদিও বাংলাদেশের পুলিস তাদের হাইকমিশন অফিসের অনেক আগেই আটকে দেয়। এরপর ওই সংগঠনের সদস্যরা এক ধর্মীয় স্থানের সামনে বড় জমায়েত করে সভাও করে। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, সেই সভা থেকে ভারত-বিরোধী উস্কানিমূলক স্লোগান ও বক্তব্য রাখা হয়। ওই বক্তব্যের অডিও ক্লিপিংস গোয়েন্দাদের হাতে এসেছে। তাতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের মানুষ ভারত দখল করবে। ভারত আবার খণ্ডিত হবে।

গোয়েন্দারা সূত্রে জানা যায়, এইসব পাক মদতপুষ্ট কট্টর মৌলবাদী সংগঠন কাশ্মীর ইস্যুতে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে ভারত-বিরোধী জনমত তৈরির চেষ্টা করছে। কাশ্মীরের জন্য পাকিস্তান লড়াইয়ে নামলে তাদের পাশে থাকার জন্যও ‘ভারতের বন্ধু’দেশ বলে পরিচিত বাংলাদেশে প্রচার চালাচ্ছে জেএমবি ও তাদের আড়ালে থাকা সংগঠনগুলি। এইসব উগ্রবাদী সংস্থা বিভিন্ন নামে এখনও কার্যত জেএমবি’র গণসংগঠন হিসেবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও এই ইস্যুতে বাংলাদেশের সরকার ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছে। এই বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর বাংলাদেশ র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়নের ডিজি বেনজির আহমেদ চলতি সপ্তাহে সাংবাদিক সম্মেলন করে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। যদিও তাতে তেমন কোনও লাভ হয়নি বলে গোয়েন্দাদের দাবি।

শুধু প্রকাশ্য মিটিং নয় বাংলাদেশে থাকা পাকিস্তানি আইএসআই চরদের সঙ্গে নব্য জেএমবির গোপন বৈঠক হয়েছে বলে গোয়েন্দারা সূত্র মারফত জানতে পেরেছেন। তাতে ভারত বিরোধী নানা চক্রান্তের পাশাপাশি কাশ্মীর ইস্যুতে জঙ্গি কার্যকলাপ আরও তীব্র করার ডাক দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, নিউটাউনে ধৃত বাংলাদেশী শাহিনুরের সঙ্গে ভারত-বিরোধী বিক্ষোভে নামা সংগঠনগুলির যোগ রয়েছে কি না, পুলিশ তা খতিয়ে দেখছে।

এম কে ইসলাম/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category