অদ্ভুত চশমা

আঃ কাইয়ুম: নানা ভাইcয়ের বয়স প্রায় নব্বইয়ের কাছাকাছি, নানা নাতিকে নিয়ে ঘুরতে যাবার পথে দৃশ্য যেন অমলিন ভাবে তাকিয়ে থাকে। আসলে কারা তারা কেন এইভাবে দুই জোয়ান বুড়ো একসাথে এইদিকে আসছে কিছু বুঝতে পারছি না। দেখা যায় বুড়োর চোখে দারুন চশমা লাগানো, নাতির মনে অনেক আনন্দ তাদের সাথে একটু মজা করা যাক। নানা নাতি হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ করে কোথায় যেন হোঁচট খায় তারপর কপাল থেকে নানার চশমা’টা মাটিতে পরে যায়। নাতি পরে যায় গাছের গোড়ায়, নানা তো চোখে আর দেখে না এখন সে কি করবে নাতিকে ডাকা শুরু করলো নাতি, নাতি ওনাতি। নাতি শুনে কার কথা, সে তো গাছের গোড়ায় পরে পরীর সাথে দেখা । তখন কি আর নানার কথা মনে আছে। নানা কে- রে-কে পরীর হাত ধরে চলে গেলো নাতি।

হতভাগা নানা চশমা না পেয়ে হাটা শুরু করলো অচেনা পথে, কোথায় যাচ্ছে সে বলতে পারে না। দুঃখ তার ভেরে গেলো (এক) চোখে দেখতে পাইনা (দুই) নাতিকে হারিয়ে ফেলেছে। এখন কি করবে এমন জায়গায় তারা গেলো সেখানে কোন লোকজন নাই। দুই নানা নাতি দুইদিকে ছুটে গেল। সন্ধ্যা হয়ে যাচ্ছে । বুড়ো নানা ঘুরতে ঘুরতে ক্লান্ত হয়ে পরেছে, কি করবে ? কোথায় যাবে ? চিন্তায় অস্থির। গাছের নিচে পরে থাকা চশমার কোন মূল্য নেয়, চশমাটা সেই কবে থেকে একদিকে তাকিয়ে আছে। গাছের সাথে চশমার একটু সম্পর্ক তৈরি হয়ে গেছে । কারণ কয়েকদিন ধরে গাছের দিকে তাকিয়ে আছে গাছের খুব মায়া হলো। হটাৎ করে কেমন জানি তারা কথা বলতে শুরু করলো কি অদ্ভুত বেপার ! ঘুরতে এসে নাতি পেল পরীকে, চশমা পেল গাছকে কিন্তু নানা কি পেল কিছুই না । শুধু বুকভরা দুঃখ। তবে চশমাটা খুব চালাক-চতুর, কারন সে গাছকে ব্যবহার করে তার মালিককে খুজবে।

গাছের সাথে চশমা কথা বলতে বলতে সে উপরে উঠে ডালে বসলো । কিন্তু তার মালিককে খুঁজে কিন্তু পাই না। গাছের উপরে চড়তে চড়তে একদম গাছের মাথায় উটে বসলো, চশমা বলছে এইবার মনে হয় মালিককে দেখতে পাবো। গাছের মাথায় থেকে খুঁজতে করা শুরু করলো তার মালিককে এবং মালিকের নাতিকে, তারা কোথায় আছে। কিন্ত প্রথমে চশমা দেখলো মালিকের নাতিকে পরী অনেক উপরে বিরাট বিছানায় ঘুম পারাচ্ছে, আর সে ঘুমাচ্ছে। কিছুক্ষণ পর দেখলো তার মালিক একটি পুকুর পারে পরে আছে কাদামাখা অবস্হায়। চশমা দেখে সহ্য করতে না পেরে এক লাপ দিয়ে দৌড়ে তার মালিকের নাকের উপর বসে পড়লো। অদ্ভুত চশমা’টা বলছে মালিক আপনি ছাড়া আমাকে কেউ ব্যবহার করে না। নানা তো অবাক আমার চশমা কে আমি হারিয়ে ফেলেছিলাম। এখন কিভাবে সে কথা বলছে! শোন চশমা আমাকে ছেড়ে আর কোথাও যাবি না তো। চশমা বলে না মালিক আমি আর কোথাও যাবো না।

এখন চলুন বাড়িতে যেই অনেকদিন হয় বাড়িতে যাই না। হ্যাঁ যাবো কিন্তু আমার নাতি কোথায় আছে তাকে কোথায় পাই, চশমা তো হেসে বলে চলো তোমার নাতির কাছে। নিয়ে গেল পরীর বিছানার পাশে। নানা দেখে তো অবাক । আমার নাতিকে কয়দিন যাবত এইখানে ঘুম পারিয়ে রেখেছে। আজ যদি আমার চশমা”টা না তাকতো তাহলে আজকে আমার নাতিকেও খুঁজে পাইতাম না। তখন নাতিকে নানা গুতা দেওয়া শুরু করলো, এই নাতি উঠো চলো এবার বাড়িতে যাই, অনেক ঘুমিয়েছো। ঘুম থেকে উঠে নাতি বললো নানা ভাই, তোমার চশমা কই ? নানা হেসে বলে, আরে আছে আমার কাছেই  । ডাক দিলেই চোখে বসে। তাহলে ডাক দাও, চশমা হুট করে নাকের উপরে! অবাক নাতি! চলো এবার বাড়িতে যাই। তারা দুইজন আবার যেভাবে আসছিল ঠিক তেমনি ভাবে আবার বাড়িতে ফিরে এলো। কিন্তু চশমাটা অদ্ভুত হয়ে গেলো! এখন নানা ভাইয়ের চশমাও কথা বলে।

এস ইসলাম/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category